২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮

চৌদ্দগ্রামে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি, অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ঔষধ

স্টাফ রিপোর্টার: চৌদ্দগ্রামের হাটবাজারগুলোতে চলছে ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা এবং অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ঔষধ। এতে ধ্বংশ হচ্ছে যুক সমাজ। স্থানীয় বাজারগুলোর বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে এ সকল নিষিদ্ধ ঔষধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার, মিয়াবাজার, নোয়াবাজার, বাবুচি বাজার, আমানগন্ডা বাঁকা বটগাছ রাস্তার মাথা, হাড়িসর্দার বাজার, বাতিসা রাস্তার মাথা, চিওড়া রাস্তার মাথা, কাজীর বাজার, পদুয়া রাস্তার মাথা, পদুয়ার বাজার, আলকরা বাজার, গুনবতী বাজার, চৌধুরী বাজার, ধোড়করা বাজার, কনকাপৈত বাজার, তারাশাইল বাজার, করপাটি বাজার, একতা বাজার, দেড়কোটা রাস্তার মাথা, খিরনশাল বাজার, মুন্সীরহাট বাজার, কাদৈর বাজার, উনকোট বাজার, নালঘর বাজার, ধনিজকরা বাজার, মদীনা মার্কেট, চৌমুহনী বাজার, রাজার বাজার, কাশিনগর বাজার সহ বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসকল হাতুড়ে ডাক্তারদের অপচিকিৎসার কবলে পড়ে শিশু ও গর্ভবতী নারী সহ অকালে ঝরে গেছে অনেক মূল্যবান প্রাণ। গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষ ডাক্তার নাম শুনলেই চিকিৎসার জন্য দৌড়ে চলে যায়। এসব ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার সহ কিডনী, লিভার, হার্টের সমস্যা সহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের ফলে এসব সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো প্রকার সার্টিফিকেট না থাকলেও ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে বাবুচি বাজারস্থ মাহবুবুল হক নামে সাইনবোর্ডবিহীন বাত-ব্যাথা ও যৌন রোগের বিশেষজ্ঞ এক ভুয়া ডাক্তারের চেম্বারে রোগি সেজে চিকিৎসা নিতে যান স্থানীয় এক সাংবাদিক। এ সময় ভুয়া ডাক্তার মাহবুব ছদ্মবেশি রোগিকে প্রথমে বিক্রয় নিষিদ্ধ ভারতীয় যৌন রোগের ঔষধ টার্গেট-২০০, বায়াগ্রার আদলে তৈরী সেনেগ্রা-২০০, যৌন উত্তোজক ফাইটেক্স, কফেক্স ও অ্যাফেক্স সিরাপ, ট্যাবলেট মুনইশ, অনুমোদনহীন ক্যালফ্রেশ ট্যাবলেট ও ডেকাডোরাভলিন গ্রুপের ইনজেকশন সহ সর্বমোট ১৮০০ টাকার ঔষধ প্রদান করেন। ঔষধের মূল্য ১৮০০ টাকা নিয়ে ভুয়া ডাক্তার এবং ছদ্মবেশি রোগির মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বাহিরে অপেক্ষমান অনেকেই এগিয়ে আসলে ভুয়া ডাক্তার মাহবুব মসজিদে আসরের আজান দেয়ার কথা বলে কৌশলে সটকে পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভুয়া ডাক্তার মাহবুবকে খুঁজে নিয়ে আসার পরে সকলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে। পরে উত্তেজিত জনতা অভিযোগের সুরে বলেন, তার অপচিকিৎসার ফলে বিভিন্ন সময় এলাকার অনেক মূল্যবান প্রাণ চলে গেছে। এসময় তারা তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। বাজার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মাহবুব দীর্ঘবছর ধরে এ বাজারে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা ব্যবসা করে আসছেন। তার ডাক্তারী সনদ আছে কিনা আমরা এতদিন জানতাম না।

স্থানীয় জাকির হোসেন বলেন, ভুয়া ডাক্তার মাহবুবের অপচিকিৎসা এবং ভারতীয় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ঔষধ ব্যবহার করে অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যুব সমাজের একটি অংশ এখান থেকে এসকল যৌন উত্তেজক ঔষধ ব্যবহার করছে। এতে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমান জানান, সরকারী ঔষধ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ বিক্রি করে থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপরোল্লেখিত ঔষধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঔষধগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো সেবনের ফলে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো বিকল হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনজুরুল হক বলেন, সরকারী ঔষধ মার্কেটে পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

আলোকিত চৌদ্দগ্রাম পরিবার

মো. এমরান হোসেন বাপ্পি

নির্বাহী সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৯ ৯৯৬২৩৮

মো. বেলাল হোসাইন

বার্তা সম্পাদক
মোবাইল: ০১৮১৩ ০৬৫৭২৮

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন

প্রধান প্রতিবেদক
মোবাইল: ০১৮১৯ ৭৮৬০১২